ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে জেনেভায় অনুষ্ঠিত পরোক্ষ পরমাণু আলোচনার মাত্র একদিন পরেই দেশটিতে এই বিধ্বংসী হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ওমানে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর ইরানের পক্ষ থেকে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছিলেন, একটি নজিরবিহীন চুক্তি এখন হাতের নাগালে, তবে এর জন্য কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেননি।
ট্রাম্পের মতে, ইরান স্পষ্টভাবে পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ওয়াশিংটন তেহরানকে পুরোপুরি পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগে বাধ্য করতে চাইলেও ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তাদের এই কর্মসূচি কেবল বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য।
মজার ব্যাপার হলো, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো উল্লেখ করেছে যে আলোচনার টেবিলের মাঝখানে থাকা অবস্থায় দেশটিতে হামলার এটি দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে গত বছরের জুনে ইসরাইলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন হামলা চালানো হয়েছিল।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে নতুন করে এই হামলার পর তেহরান এখন ‘প্রতিশোধ’ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
তিনি গত সপ্তাহে বলেছিলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীকেও মাঝে মাঝে এমন জোরে আঘাত করা যায় যে তারা আর উঠে দাঁড়াতে পারে না। তিনি আরও যোগ করেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজের চেয়েও বিপজ্জনক হলো সেই অস্ত্র যা ওই জাহাজকে সমুদ্রের তলদেশে পাঠিয়ে দিতে সক্ষম।
ইসরাইলের ‘রোরিং লায়ন’ অভিযানের ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন চরম যুদ্ধের উত্তেজনা বিরাজ করছে। মার্কিন ও ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরানের সম্ভাব্য ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। এই সংকটময় মুহূর্তে কূটনীতির ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি অন্ধকারে ডুবে গেছে।


